| | | | | | | | | |

Swapner Feriwala

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা

বাথরুম থেকে বেরিয়ে কোনও জামাকাপড় পরার আগেই মোবাইল বেজে উঠল। নন্দিনী দৌড়ে গিয়ে বেডসাইড টেবিল থেকে ফোনটা তুলে নিল।

“আজ আসব?” ফোনের কলার আইডি দেখে আগেই বুঝেছিল ফেরদৌস। গলার স্বরে স্পষ্ট হয়ে গেল।

তোয়ালে দিয়ে চুলটা মুছতে মুছতে বলল “নাঃ”

“কেন?”

“জাস্ট ওয়াণ্ট টু বি এলোন। আজ থাক। অন্য একদিন”

এসির ঠান্ডা হাওয়ায় গাটাকে শুকিয়ে নিতে ভারি আরাম লাগছে। সারাদিনের ঘেমো গায়ের ক্লান্তিটা ঝেড়ে ফেলতে পারছে। বেশ কিছুক্ষণ খালি গায়েই খাটের ওপর বসে রইল। কতক্ষণ কেটে গেছে খেয়াল করেনি। শোকানো গায়ে শিরশির করা হাওয়ায় মৃদুমন্দ কম্পন। আর বেশিক্ষণ এভাবে থাকলে ঠান্ডা লেগে যাবে। ড্রেসিং টেবিলে পড়ে থাকা হাউসকোটটা জড়িয়ে ফ্রিজ থেকে একটা গ্লাসে বরফ ঢালল। হুইস্কিতে চুমুক দিয়ে কম্পিউটারটা সুইচ-অন করল।

অন্যান্যদের মতো সারাদিনের কাজের শেষে টিভির রিমোট বটনটা কোনদিনও টেপে না নন্দিনী। কারণ সারাদিনই তো ওই পৃথিবীতে পড়ে আছে। কাজের শেষে আবার সেই পৃথিবীতে ফেরত যেতে মন চায় না।

পর্দাটা টেনে খুলে দিল। তার মাল্টিস্টরিড অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং থেকে ধানমুন্ডি লেকের অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়। সারাদিনের ক্লান্তির পর হুইস্কিতে মৃদুমন্দ চুমুক দিতে দিতে ধানমুন্ডি লেকের ওপাশের বাড়িগুলোর রোশনাই দেখে, সময়টা বেশ কেটে যায়। পুরনো বাড়ির টিমটিম করা আলো আর নতুন মাল্টিস্টরিড-এর ঠিকরানো রোশনাই-এর রিফ্লেকশন যেন ঢেউ তুলছে ঢাকার এই অভিজাত পল্লিতে। মাঝে মাঝে অন্ধকারের মধ্যে হাওয়ায় নড়া গাছের ডালগুলো যেন অতীত আর বর্তমানের একটা যুগলবন্দি খেলে যাচ্ছে। যেন রাগ ললিত গৌরী মিশে যাচ্ছে রাগ আনন্দী কল্যাণের সঙ্গে। শাওনি কল্যাণের অসংলগ্ন একটা যুগলবন্দিতে।

 মনে পড়ে, এই তো সেদিন এই অ্যাপার্টমেন্টে এসেছিল। যখন এরশাদ সাহেব আচমকা চাকরির অফারটা পেড়েছিল। হাতে যেন একটা স্বর্গ পেয়েছিল। তার চ্যনেলের আর্ট ডিরেক্টরের চাকরি। বাংলাদেশে থাকার জায়গা চাই। এরশাদ সাহেব থাকার জায়েগা করে দিয়েছিল এখানে। ছন্নছাড়া জীবন থেকে একটা নিশ্চিন্ত বাসস্থান। সঙ্গে ভদ্রভাবে বাঁচার মোটা মাইনে।

মন্দ কী?

হুইস্কির নেশা একটু যেন লেগেছে। কিছুক্ষণ ধরেই ভাবছিল কম্পিউটার চালিয়ে গান শুনবে। কিন্তু কুঁড়েমির জন্য আর কম্পিউটার চালানো হয়ে ওঠেনি। এমন সময় ফোনটা বেজে উঠল। ধ্যত... ঘরে নিভৃতে দুদণ্ড বসে হুইস্কিও খাওয়া যাবে না! জ্বালাতন। ফোনটা অফ করেই রাখত, যদি না চাকরির খাতিরে সর্বদাই ওটা অন করে রাখার একটা অনুচ্চারিত শর্ত অজান্তে ফল্গুধারার মতো নিভৃতে বিচরণ করত।

“বাড়ি ফিরেছ?”

“হ্যাঁ। এই কিছুক্ষণ আগে”

“নেক্সট মাসে আমাদের কামবোডিয়া ট্রিপের কথা মনে আছে?” রেজ্জাক ওপাশ থেকে বলল।

মনে মনে ভাবল, এরা আর সময় পায় না! নেক্সট মাসে একটা আর্ট-এর ওপর ডকুমেন্টারি করার জন্য কামবোডিয়ার পরিকল্পনা কী সারা দিনের কাজের শেষে এখনই বসে না করলেই নয়? তবু কাউকে চটানো যাবে না।

“হ্যাঁ” সংক্ষিপ্ত জবাব দিল।

“কিছু প্ল্যান করেছ?”

ধ্যস!

এক মাস আগে থেকে প্ল্যান করার কী আছে? নিকুচি করেছে কামবোডিয়া ট্রিপ-এর। এত ঘটা করে একটা ডকুমেন্টারি করতে হবে। কাজের কাজ কিসসু হবে না। বিদেশে যাওয়া যেন একটা নেশা। সেই নেশার মাদকতায় যেন সবাই বুঁদ হয়ে আছে। কামবোডিয়া না হয়ে বলিভিয়া হলে কী আসে যায়? কে বোঝাবে? লোভের সো-কেসে পৃথিবীটাকে সাজিয়ে ফেলতে চাইছে বিদেশ থেকে ম্যল-ইম্বাইবড এই কালচার। ‘ফরেনে’ যাওয়ার যেন একটা উন্মাদনা। একটা কালচারের অঙ্গ।

কী আর করা যাবে?

“এখনও তো মাসখানেক বাকি। তাড়া কীসের?”

“একটা রেয়ার ডকুমেন্টারি বলে কথা। আগে থেকে প্ল্যান না করলে চলে?”

একটু বিরক্ত হয়েই বলল “সারাদিনের কাজের শেষে? এই ভর সন্ধেবেলা?”

“তাহলে সানডেতে চলে আসি। দুজনে বসে প্ল্যান করে নেওয়া যাবে”

“পরে কোনও একদিন প্ল্যান করে নেব। এখন ভালো লাগছে না”

রেজ্জাক বুঝল নন্দিনীর মুড এখন ভালো নেই। পরে এ নিয়ে কথা বলা যাবে।

“ঠিক আছে। রাখছি”

রেজ্জাক সাহেব এই ডকুমেন্টারির ডিরেক্টর। হয়ত সে সত্যি সত্যি এই ডকুমেন্টারিটা নিয়ে বড় বেশি চিন্তা করছে। তাই ফোন করেছে। এমন যদি কিছু হত, যাতে একজন মানুষ আরেকজনের মনের অবস্থাটা বুঝতে পারে - জীবনটা তাহলে কত সহজ হয়ে যেত। অনেক সময় মনের কথাটা বলে দিতে হয়।

সেখানেই অসম্পূর্ণতা।

শুধু রেজ্জাক বলেই নয়। নারী হিসেবে নিজের অসম্পূর্ণতাতেও খামতি। রামধনুর সাতটা রং-এর মধ্যে কোনও রং-ই পূর্ণতার গান গাইতে পারছে না। ছবিটা অস্পষ্ট ধোঁয়াটে। বরং বর্তমানের ছবিটা অনেক স্পষ্ট। কিংবা নিজের ক্লান্তিটা।

দূরে রবীন্দ্র সরবরের ওপাশে আট নম্বর রাস্তার ব্রিজের অ্যাম্ফিথিয়েটারের ওখানে বহু লোকের সমাগম। নিশ্চয়ই কোনো শো ভেঙেছে। প্রায়শই ওখানে প্রোগ্রাম লেগে থাকে।

ফোনটা কেটে কম্পিউটারটা চালিয়ে দিল। বাইরের দিকে তাকিয়ে হারিয়ে যাওয়া কতক্ষণ, কে জানে? ভুলেই গিয়েছিল স্ক্রিনটা আটকে আছে পাসওয়ার্ড-এর অপেক্ষায়। পাসওয়ার্ডটা  টাইপ করে আবার হুইস্কিতে চুমুক দিল।

ধান্দার বাইরে একটা অস্তিত্ব খুঁজছে অনেকদিন ধরে। একটা নিটোল নির্ভেজাল অ-ব্যবসায়িক সম্পর্ক। এত বছর কাজের সূত্রে ব্যবসায়িক ধান্দাবাজি তো কম দেখল না। এরশাদ সাহেব যতই ভালবাসুক না কেন, চ্যানেলের আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে তার টুঁটিটাও বাঁধা। পলিটিক্যল গিমিকস, আন্দোলন, রাইটস থেকে রেপ, খুন-খারাপির কাহিনি থেকে সেলেব্রিটি, চ্যানেলের মাথাদের পদলেহন – সবই যেন ক্যানভাসে এক একটা অসম্পূর্ণ ছবি। ঘেন্না ধরে গেছে।

ছোট বয়সে – কত আদর্শ!

যেন একাই একটা সম্পূর্ণতা খুঁজে নিতে পারবে। হয়ত কিছুটা পরিবর্তনও আনতে পারবে। কোথায় সম্পূর্ণতা? কোথায় পরিপূর্ণতা? সব স্বপ্নই যেন হাজার কোটির নিলামে চড়েছে। কাজের সুবাদে ধীরে ধীরে আদর্শের স্বরূপগুলোর সামনে আসা। কোটি কোটি দেশি-বিদেশি টাকা ঘুরছে লোকের আদর্শগুলোকে নিজের সুবিধায় খেলাতে। আদর্শটাকে রিসাইকল বিনে ফেলে মাস মাইনের চাকরিটাকেই পাথেয় করে জীবন চালিয়ে দেওয়া!

এই আর কী!

কিছুই পালটাবে না। মাঝখানে খবরের হাইপের অংশীদার হয়ে কিছু কামিয়ে নাও! ফুলে ফেঁপে রমরমিয়ে টাকা ছড়ানো চাঁইদের গুণগানে শামিল হও, অথবা মূর্খ পাবলিককে বোকা বানিয়ে ঝড় তোলার চিত্রপট সাজাও। পাবলিকের থেকে গালেবেল বস্তু আর কে আছে?

এক সঙ্গে ঢকঢক করে বেশ কিছুটা হুইস্কি গিলে নিল। দরজার এপার-ওপারের সীমারেখাটাকে আবার দেখবার সময় হয়েছে। ফেরদৌস তার থেকে বছর তিন-চারেকের ছোট হলে কী হবে, কাজে যোগ দেওয়ার বেশ কিছুদিন পরেই তার জীবনে এসে পড়েছে। এসে পড়েছে বললে ভুল হবে, দরজার চৌকাঠে রেখে নন্দিনীই তাকে প্রশ্রয় দিয়েছে।

একা শূন্য ফ্ল্যাটে হাঁপিয়ে উঠছিল নন্দিনী। কাজের পৃথিবীটাকে ধানমুন্ডির ফ্ল্যাটের বাইরে রেখে, চার দেওয়ালের মধ্যে কেবলই ছটফট করছিল।

“আসতে পারি নন্দিনীদি?”

“আমার বাড়িতে?”

“হ্যাঁ। ডিনার খেতে”

একাকিত্বের নির্জন উন্মাদনায় দেহের অংশবিশেষ তখন জ্বলছে। মুক্তি চাই! পরিত্রাণ চাই! বাঁচবার রসদ চাই! সারাদিনের গতে বাঁধা চক্করে ক্লান্ত মনটা বাঁধ ভাঙা প্লাবনে উপচে পড়তে চাইছে। ভাসিয়ে দিতে চাইছে একাকিত্বে ঘেরা দেহমনের নিস্পন্দ আবেগকে।

ঠিক সেই মুহূর্তে ফেরদৌসের ফোনটা এল।

“রান্না যে কিছুই নেই!”

“নিজের জন্য তো কিছু করেছ? তাতেই হবে...”

খালি হাতে আসেনি ফেরদৌস। জিঞ্জিয়ান থেকে একগাদা খাবার প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে এনেছিল। খাওয়া থেকে আড্ডা। আফটার ডিনার কফি।

রাত তখন ক’টা কে জানে? ফেরদৌস বেরিয়ে যাচ্ছিল। দরজার মুখে ফেরদৌসকে বিদায় জানাতে গিয়ে নন্দিনীই বলেছিল “যেতেই হবে?”

ফেরদৌস ফিরে বলেছিল “ফ্ল্যাটটা তো তোমার থাকার দিদি...”

নন্দিনী প্রভকেটিভ একটা হাসি ছুড়ে বলেছিল “আজকের দিনের জন্য তোমায় বিনে পয়সায় ভাড়া দিতে পারি”

ফেরদৌসের রোমশ বুকের ওপরে মাথা রেখে বহুদিনের নিঃসঙ্গতার পুঞ্জিভূত জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পরেছিল নায়াগ্রার ঝরনা হয়ে। বাঁধ ভাঙা জৈবিক চাওয়ায়। নায়েগ্রার জলোচ্ছ্বাস মিশে গেল ইন্দ্রিয়ের প্রতিটা কোষে। তৃপ্তির নিখাদ ঝালায়। জীবনের অনেক না-পাওয়ার মধ্যে একটুকরো পাওয়া। সাময়িক পূর্ণ হল নন্দিনী। শুরু হয়েছিল তার ফেলে আসা নারীত্বের দেবী বরণ।

কিন্তু সেই চৌকাঠে আজও থেকে গেছে ফেরদৌস। এত বছরেও তাকে চৌকাঠ পেরতে দেয়নি নন্দিনী। এই একার পৃথিবীতে বাকি সবকিছুই গৌণ। একমাত্র সে ছাড়া। তার কাজের পৃথিবী থেকে ফেসবুকের ‘ভারচুয়াল’ পৃথিবী  - তার কাছে একটা মুখোশ পরা কেউ। জানতেও চায়নি, ফেরদৌস এর বাইরের লোক কি না।

তার দুনিয়ায় সে একা।

হাতে হুইস্কি। সামনে কম্পিউটার।

ফোনটা আবার বেজে উঠল। আবার ফেরদৌস?! মনে মনে একটু বিরক্তই হল। তার একাকী জীবনে কেন ভাগ বসাতে চাইছে সে? দেহ আর মনের তফাতটাও বুঝতে শেখেনি!

একটু বিরক্ত হয়েই মোবাইলটা নিয়ে বলল “হ্যালো”

“অসময়ে তোমায় বিরক্ত করলাম নন্দিনী?”

“না... না...”

এরশাদ সাহেব বলে কথা। তার চ্যানেলের মালিক। কিন্তু এত রাতে?!

“একটা গোপনীয় কথা তোমারে কমু বইলাই ফোন করসি”

“হ্যাঁ...হ্যাঁ... বলুন স্যর”

“আমাগো চ্যানেলের একটা পাবলিসিটি দরকার। মানে এইসব সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে কেন্দ্র কইর‍্যা”

‘কেন?’ বলতে গিয়েও কথাটা চেপে গেল। এমন অনেক প্রশ্ন আছে, যা করা যায় না। এমন অনেক উত্তর আছে, যা এরশাদ সাহেব দিতে চাইবেন না।

“সিওরলি স্যর”

“একটা ভাল কইর‍্যা স্টোরি করতে কইসি। যেইটা লোকে খায়। তোমারে কিন্তু সামিমুলের সঙ্গে বইসসা সাজাইতে হইব...”

“নিশ্চয়ই স্যর। আপনি একটুও চিন্তা করবেন না স্যর”

“মনে রাইখ্য তুমি, আমি আর সামিমুল সারা ব্যাপারটা আর কেউ যাতে জানতে না পারে। প্লিজ কিপ ইট ইন মাইন্ড”

“আপনি একবার বলে দিয়েছেন। সেটাই বড় কথা”

এরশাদ সাহেব কথা না বাড়িয়ে লাইনটা ডিসকানেক্ট করে দিল। ঢকঢক করে আরও কিছুটা হুইস্কি গিলে ফেলল নন্দিনী। কী বোকাই না ছিল ছোটবেলায়! কতই না স্বপ্ন দেখত দেশের জন্য, বিশ্বাসের জন্য – আদর্শ, ইজম, ধর্ম, সংস্কার, রুচি, ভবিষ্যৎ সব তো ছোটবেলার শেখানো জোলো বুলি।

নেশায় মাথাটা আরও বেশি করে খুলছে।

এরশাদ সাহেবের অঙ্কটা কেমন পরিষ্কার ঠেকছে। ইন্টারন্যশনাল কোনো এজেন্সির কাছে টাকা খেয়ে, দেশে একটা আগুন জ্বালাতে চাইছে। যুদ্ধ চাই – কোথাও একটা। তা না হলে যে ইকনমি ফিরবে না! এই রিসেশন থেকে বাঁচার একমাত্র পথ।

শুধু ধানমুন্ডির ফ্ল্যাট নয়, গোটা বিশ্বটাই যেন একটা অদৃশ্য জেলখানায় বন্দি হয়ে পরিত্রাণ খুঁজছে। একটা অর্গ্যজম। ফেরদৌস যা দিতে পারবে না। এরশাদ সাহেব যা দিতে পারবে না। এক অদৃশ্য খাঁচায় বন্দি হয়ে নন্দিনীর মতো কিছু মানুষ পরিত্রাণ খুঁজছে। জীবনের বেঁচে থাকার মানে খুঁজছে। বাঁচতে চাইছে। এখনও স্বপ্ন দেখতে চাইছে। ওই মাটি, ওই আকাশ, ওই সমুদ্রের নীল পাথরবাটির মধ্যে।

নেশাটা কেমন গাঢ় হয়ে আসছে। রাতের অন্ধকার বাইরের আলোর রোশনাইকে ছাপিয়ে গেছে। ঘরের টেবিল ল্যাম্পের আলোটা নন্দিনীর মুখে একটা আবছায়া ছবি এঁকে দিয়ে যাচ্ছে। সেই আলো আঁধারির রঙেই অন্ধকারের ক্যানভাসে নন্দিনী কিছু আঁকতে চাইছে।

স্বপ্নটাকে?

বাস্তবকে? না, স্বপ্নে দেখা বাস্তবকে?

না কি, বাস্তব ছেড়ে নিজের স্বপ্নকে?

নন্দিনী জানে না কোনটা। শুধু জানে, মন কিছু একটা আঁকতে চাইছে বাইরের ম্রিয়মাণ আলো দিয়ে নতুন কোনও ক্যানভাসে।

ফেসবুকে ‘লগ ইন’ করতেই একটা স্ট্যাটাস চোখে পড়ল। ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’ বলে কেউ একজন। লোকটির প্রোফাইল পিকচারে শুধুই নীল আকাশের ছবি।

স্ট্যাটাসে লেখা ‘আমরা সবাই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’

নন্দিনী চুপ করে লেখাটার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। একবার ‘লাইক’ দিল, কয়েক সেকেন্ড বাদে ‘লাইক’-টা কেটে দিল … আবার ‘লাইক’ দিল, কয়েক সেকেন্ড বাদে আবার ‘লাইক’-টা কেটে দিল …

তারপর যেন একটা সম্মোহনের ঘোরের ভেতর কমেন্টের বক্সে লিখে ফেলল ‘বেচে কে, কেনে কে? স্বপ্নটা কার? ফিরিওয়ালা ঘুরে মরে মন ছারখার’