Dharma : Kichoo Anubhuti

Religion is the highest order of politics.

কথাটা অপ্রিয় হলেও সত্যি।

অসীমকে, সীমার মধ্যে আনার প্রচেষ্টায় মানুষের মানসিক evolution। Darwin-এর Theory of natural selection এর মধ্যেই তার জন্ম। মানুষের সঙ্গবন্ধ থাকার বাসনার মধ্যেই তার প্রাথমিক ব্যাপ্তি। আমাদের মধ্যে যে ভয় লুকিয়ে আছে, সেটাই অসীম। তাকে সীমার মধ্যে এনে, এক গোষ্ঠীকে বেঁধে ফেলার সংকল্পেই ধর্মের বুৎপত্তি। অসীমকে যেমন আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারি না, অজানাকেও যে আমাদের তেমন-ই ভীষণ ভয়। যুগযুগান্তর ধরে মানুষের এই ভয়কে খুঁটি করে গড়ে উঠেছে ধার্মিক নিয়মাবলী। কখনো সত্যি কোনও মানুষের আকারে, কখনো মিথ্যে কোনও কাল্পনিক ভগবানকে সামনে খাড়া করে। এই অসীম বা অজানাটাই বিভিন্ন সময় ধর্মের উত্তরীয় পরে দেখা গেছে, নানান বেশে, নানা রূপে, নানা রঙে।

আসলে ধর্ম আর কিছুই নয়, নিজস্ব আত্মচেতনা।

এই চেতনা কেউ একা ঘরে বসে পায়, কেউ কারও পায়ের তলায় বসে, কেউ ছোটে দূর থেকে দূরান্তে, তীর্থ থেকে পুণ্য সাগরের কথিত স্বর্গরাজ্যে।  মানুষ যে নিজেই নিজেকে চেনে না। তাই পাগলের মতো কখনো ছুটে বেড়ায় কোনও ধর্মের দরজায়, কখনো বা কোনও মনিষীর সংস্পর্শে। কারণ, সে অপূর্ণ। কবিগুরু যখন গেয়ে ওঠেন আপনাকেই জানা আমার ফুরাবে না...’ তখন অন্যান্যদের মতো তিনিও কিন্তু সেই অজানার সন্ধান করে গেছেন, অসীমকে চেনার অভিলাষে। এই অসীমকে খোঁজার কেন্দ্রবিন্দুতে, যেটা তাঁর সীমাবদ্ধতা, অহরহ তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছিল, সেটা সংসারের মায়াজাল। শেষ পর্যন্ত, পেয়েছিলেন কী? বোধহয় নয়। তাই মৃত্যুর আগের শেষ কবিতাতে তাই আক্ষেপ, অনুসুচনা, নিজের অক্ষমতা, সাংসার নামক মায়াজালের কাছে নতিস্বীকার তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি বিচিত্র ছলনাজালে। মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে সরল জীবন’

কীসের বিশ্বাস? কাকে বিশ্বাস? যার নিজের প্রতি বিশ্বাস আছে, তার কাছে সব ছলনাই জৈবিক অঙ্গ, জাগতিক নিয়ম। যে এই জৈবিকতার মায়া কাটাতে পেরেছে, সেই তো অসীমের সন্ধান পাবে। অসীম যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বাইরে, একাকীত্বের নির্জনতায় দীপ্ত। সেখানে কেউ নেই, খালি একা নিজের অচেনা দিকগুলো দেখা। এই নিজেকে দেখাটাই তো আত্মচেতনা। যদি নিজের অন্ধকারে কুঠারির মধ্যে, ভয় কাটিয়ে নিজেকে আবার নতুন করে, নিজের নগ্ন স্বরূপ দেখা যায়, সেখানে আরেক পৃথিবী। যেখানে আলো নেই, তবু আলোর বন্যা, যেখানে গন্ধ নেই তবু সুগন্ধের ঝর্না, যেখানে কেউ নেই তবু যেন কার অমৃতস্পর্শে দেহ, মন, আনন্দে শিহরিত হয়ে ওঠে প্রতি মুহূর্তে। যেখানে স্তম্ভিত জাগ্রত বরণ করে নেয় সত্ত্বা আর আত্মাকে পরম স্নেহে। কানে কানে নিঃশব্দে শোনায় গভীর মহামন্ত্র  শান্তির আলোকে। তাঁকে পাওয়া কঠিন হলেও অজেয় নয়। যে সে পথে বা বাড়িয়েছে, সেই তো আসল ধর্মের একনিষ্ঠ পূজারি। যেখানে জীবাত্মা আর পরমাত্মা এক সঙ্গে মিলে যায় to the concept of mass universal energy। সেখানেই অধিস্থিতি। সেখানেই পূর্ণতা, চিরশান্তি, সমাধি।  তাই মৃত্যুর প্রাক্বালে তাঁর নতুন চেতনা ‘সে যে অন্তরের পথ, সে যে চিরস্বচ্ছ’

সেটাই তো ধর্ম। আর এই পথ-ই তো সেই সোপানে পৌঁছনোর পাথেয়।  যখন শুধু ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর’ এই চেতনা থেকে বিশ্বপ্রকৃতি, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এক, একমেদ্বিতিয়ম। এই মহাবিশ্বের সঙ্গে এক সুরে নিজেকে বেঁধে ফেলা, এই interaction টা জীবাত্মা আর পরমাত্মার মিলনের যুগলবন্দীর ছন্দ - মানুষের ধর্ম।

 

 
Facebook Twitter GooglePlus Wordpress Blogger Linkedin Instagram Tumblr Pinterest Hubpages WhatsApp  © 2000 - 2016 | Cosmetic Surgery in Kolkata | Dr Aniruddha Bose | design by Poligon
This page was generated in 0.016 seconds